ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামে আরো একজনের মৃত্যু। রংপুর নগরীতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে সিটি কর্পোরেশন।
  • বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০২ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে সরকার বসুন্ধরার হাসপাতাল ‘উধাও’ হয়নি, বণ্টন হয়েছে- স্বাস্থ্যের ডিজি রংপুরসহ দেশের তিন বিভাগ ও দুই জেলার একাধিক স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রংপুরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।

আলু রাখার জায়গা নেই দিনাজপুরের হিমাগারে 

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২১  

বাজারে দাম নেই, হিমাগারে জায়গা নেই। এ অবস্থায় আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের আলুচাষিরা। ফলন ভালো হলেও হিমাগারে জায়গা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই কম দামে আলু বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

দিনাজপুরে এবার ১০ লাখ টন আলু উত্পাদন হলেও জেলার ১৩টি হিমাগারে ধারণক্ষমতা মাত্র ১ লাখ ২৪ হাজার টন। ধারণক্ষমতা ফুরিয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই আলু বুকিং বন্ধ করে দিয়েছেন হিমাগার মালিকরা।

দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, গত কয়েক দিন আগে পাইকারী বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৯ টাকায়। এতে উত্পাদন খরচও উঠছে না চাষিদের।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার চাকাই গ্রামের আলুচাষি আনসারুল ইসলাম জানান, ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘাতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘাতে আলুর ফলন হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ মণ। গত কয়েক দিন আগে তিনি প্রতি কেজি আলু বিক্রি করেছেন সাড়ে ৯ টাকা দরে। এতে প্রতি বিঘাতে তার লোকসান হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।

একই উপজেলার কমরপুর গ্রামের আলুচাষি প্রমথ রায় জানান, ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রতি কেজি আলুর উত্পাদন খরচ হয়েছে ১০ টাকা ৪১ পয়সা। পাইকারী বাজারে দাম না থাকায় এবং আলু রাখার জায়গা না থাকায় তিনি প্রতিকেজি আলু বিক্রি করেছেন ৯ টাকা ১৫ পয়সা দরে। প্রতিকেজিতে তাকে লোকসান দিতে হয়েছে প্রায় দেড় টাকা। এতে ১০ বিঘা আলুর চাষ করে তাকে বিপুল পরিমাণ লোকসান দিতে হয়েছে। একই কথা জানান, আলুচাষি বলরামসহ অন্যারা। জায়গা ও দাম না থাকায় অনেকেই মাঠে স্তূপকৃত আলু রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স হিমাদ্রী হিমাগারের ম্যানেজার সাদেক আলী জানান, তাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ৮ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে এই পরিমাণ আলু বুকিং হয়ে যাওয়ায় তাদের হিমাগারে আর কোনো জায়গা নেই। এ জন্য বুকিং বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। বোচাগঞ্জ উপজেলার রাহবার হিমাগার প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার শাহজাহান আলী জানান, তাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১০ হাজার ৮০ টন। ইতিমধ্যেই তা পূরণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় প্রতিদিন আলুচাষিরা আলু রাখার জন্য এলেও আর নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়েই আলুচাষিরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু করার কিছু নেই।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি মৌসুমে ৪৮ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। এতে ফলন হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টন আলু।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –