• রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

  • || ০৬ মুহররম ১৪৪৬

ঐতিহ্যবাহী জাম্বুরার মেলা

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২৩  

 
সনাতন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দেবীপূজার পর দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুরাতন ভূষিরবন্দরে বসে দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জাম্বুরা মেলা (কালীহাটি)। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ জাম্বুরা ক্রয়-বিক্রয়।

জাম্বুরা কাঁচা ফলের বাইরের দিকটা সবুজ এবং পাকলে হালকা সবুজ বা হলুদ রঙের হয়। এর ভেতরের কোষগুলো সাদা বা গোলাপী রঙের। এর খোসা বেশ পুরু এবং খোসার ভিতর দিকটা ফোম এর মত নরম। লেবু জাতীয় ফলের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড়। যা ১৫-২৫ সেমি ব্যাস বিশিষ্ট হয়ে থাকে। এর ওজন ১-২ কেজি হয়।

উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পুরাতন ভূষিরবন্দর এলাকার কাচিনীয়া-ভূষিরবন্দর রাস্তার ধারে দীর্ঘকাল ধরে প্রতিবছর কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথীতে শ্রী শ্রী চন্ডিকালী মাতা মন্দিরে কালীর মেলা চলে আসছে। এ মেলায় হরেক রকমের দোকানের মধ্যে জাম্বুরার দোকান অন্যতম। আগত দর্শনার্থীরা মেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে জাম্বুরা না খেয়ে আর না নিলে চলে যায় না। দর্শনার্থীদের হাতে হাতে থাকতে হবে জাম্বুরা। কয়েক লাখ টাকার জাম্বুরা বিক্রি হয়ে থাকে।

জাম্বুরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা প্রতি বছর এ দিনটির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণেন। বিক্রেতারা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে জাম্বুরা সংগ্রহ করেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জাম্বুরার দোকানে বেচা-কেনা হয়। চিরিরবন্দর উপজেলাসহ পাশর্^বর্তী উপজেলা এমনকি জেলা সদর থেকে দর্শনার্থীরা এ মেলায় আসেন এবং জাম্বুরা কিনেন।

গতকাল সোমবার কালীহাটিতে গিয়ে জাম্বুরা বিক্রেতা পলাশ রায়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ৩০ বছর ধরে আমি এ মেলায় জাম্বুরা নিয়ে আসি। প্রতিটি জাম্বুরা ৩০ টাকা থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। এখানে প্রচুর জাম্বুরা বিক্রি হয়।

রাণীরবন্দর এলাকার জাম্বুরা ক্রেতা আবু সুফিয়ান বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায়, এ বছর জাম্বুরার দাম তুলনামুলক বেশি।

বিক্রিতা জব্বার, দিনেশ ও সুনিল জানায়, এ বছর তুলনামুলক জাম্বুরার ফলন কম হয়েছে। তাই দাম একটু বেশি। 

কালী মেলার সভাপতি সুনিল কুমার সাহার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শ্রী শ্রী চন্ডিকালী মাতা মন্দির প্রতিষ্ঠা ও জমিদান করেন জমিদার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত চৌধুরী গং দেউলগ্রাম, মিঠাপুকুর। পরবর্তীতে ৬০ দশক থেকে প্রতি বছর জানকী নাথ আগরওয়ালার সহযোগিতায় ও হেমন্ত রায়ের উদ্যোগে তেঁতুলিয়া মৌজায় হিন্দু সমাজ পূজা উদযাপন করেন। এ মেলায় যেসব দর্শনার্থীরা আসেন তারা মুলত দর্শনের পাশা-পাশি জাম্বুরা কিনে থাকেন। জাম্বুরার জন্য বিখ্যাত এ মেলার বেশ পরিচিতি রয়েছে। পূর্বের তুলনায় অবকাঠামে উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়ন করা হয়েছে। 

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –