ব্রেকিং:
নারীর ক্ষমতায়নে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি স্পিকার অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর কুড়িগ্রামে নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী লালমনিরহাটে দরিদ্রদের চোখের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন মন্ত্রীপুত্র নীলফামারীতে ইমামদের নিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ
  • শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৭

  • || ০৮ সফর ১৪৪২

সর্বশেষ:
জাতিসংঘে বাংলা: সেই ঐতিহাসিক দিন আজ পৃথিবীকে রক্ষায় জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান নৌপ্রতিমন্ত্রীর আমরা চাই মেধা নির্ভর ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ- নীলফামারীতে পলক সৈয়দপুরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
৮০

দিনাজপুরে অসহায় গৃহবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন এসপি 

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২০  

দিনাজপুরের এসপি মো. আনোয়ার হোসেন খানসামা উপজেলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক গৃহবধূর চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে এক মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। 
ভ্যানচালক তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী চার বছরের শিশুর মা নাসরিন বেগম চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর পথযাত্রী। শুক্রবার বেশ কয়েটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভুল চিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নাসরিন বেগম শিরোনামে নিউজ প্রকাশ করা হলে বিষয়টি এসপির নজরে আসে।   

এসপি আনোয়ার হোসেন জানান, চিকিৎসকের ভুলের কারণে চার বছর ধরে বিছানায় কাতর জীবন-যাপন করছেন গৃহবধূ নাসরিন বেগম। নিউজটি আমার হৃদয়ে আঘাত করেছে। খানসামা থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি নাসরিন বেগমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। 

তিনি আরো জানান, হাসপাতালে নাসরিন বেগমের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। তার চিকিৎসার সব ধরনের খরচ বহন করা হবে। 

খানসামার থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, অসুস্থ নাসরিন বেগমের স্বামী তৌহিদুল ইসলামকে ফোন দিয়ে ঠিকানা নিশ্চিত হওয়ার পর নাসরিন বেগমের বাড়ি যাই। গিয়ে দেখি অসুস্থ নাসরিন জটিল রোগ নিয়ে ঘরের বারান্দায় শুয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন। দুই চোখ ঘরিয়ে অশ্রু ঝরছে। নাসরিনের শয্যা পাশে বসে কি হয়েছে আপা বলতেই হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকেন।

এ সময় নাসরিন বেগম বলেন, ‘আমার জীবনটা শেষ করে দিল ডাক্তার শামসুদ্দোহা মুকুল। তার অপচিকিৎসার কারণে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। আমার একটাই ইচ্ছা স্যার, আমি মরে গেলে আমার অবুঝ শিশুটির কি হবে। সে তো এতিম হয়ে যাবে। অবুঝ শিশুর জন্য আরো কিছু দিন বাঁচতে ইচ্ছা করে। ভ্যানচালক স্বামীর পক্ষে আমার চিকিৎসার খরচ চালানো আর সম্ভব নয়।’  

২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি গর্ভবতী নাসরিন বেগমকে খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে সিজার করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খানাসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল সিজার করেন। ছয়দিন পর্যন্ত সেই ক্লিনিকে চলে নাসরিন বেগমের চিকিৎসা। 

চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়ি নিয়ে গেলে নাসরিন বেগমের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শিশু জন্মের আট দিন পর আবারো সেই ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় নাসরিন বেগমকে। আবারো করা হয় অস্ত্রোপচার। 

হাসপাতালের নার্সরা জানান, সিজার করার জন্য চিকিৎসক ভুলবশত রোগীর পেটের ভেতর তুলা ও গজ রেখে দিয়েছিলেন। তা অপারেশনের মাধ্যমে বের করা হয়। কিন্তু সেই অপারেশনের পর থেকে রোগী আর সুস্থ হননি। 

রংপুর, দিনাজপুর, চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরে গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি আর সুস্থ হননি। সর্বশেষ চলতি মাসে দিনাজপুর ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেবুন নাহার মিনুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন মাসের ওষুধ দিয়েছেন। এ ওষুধ খেয়ে রোগী সুস্থ না হলে রোগীর জরায়ু কেটে ফলতে হবে বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, প্রথমে রোগীর সিজার করার জন্য ইনফেকশন হয়েছে। সেই ইনফেকশন জরায়ু পর্যন্ত চলে গেছে।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –
দিনাজপুর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর