ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামে আরো একজনের মৃত্যু। রংপুর নগরীতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে সিটি কর্পোরেশন।
  • বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০২ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে সরকার বসুন্ধরার হাসপাতাল ‘উধাও’ হয়নি, বণ্টন হয়েছে- স্বাস্থ্যের ডিজি রংপুরসহ দেশের তিন বিভাগ ও দুই জেলার একাধিক স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রংপুরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।

দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা 

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২০  

মুজিববর্ষ উপলক্ষে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা পুনরুদ্ধার করতে এবং মাদকের থাবা থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আয়োজন করা হয়েছিল ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা দেখতে পেয়ে খুশি স্থানীয়রা। এই খেলাকে ঘিরে পুরো গ্রাম জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। 
নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের বাজিতপুর ইটাখুর বববাড়িয়া গ্রামবাসীর আয়োজনে স্থানীয় ইটাখুর মাঠে সোমবার বিকেলে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। 

জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোাগীরা খেলায় অংশ নেয়। তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মোট ২৭টি ঘোড়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এছাড়া ছিল বাবা ও মেয়ের ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা।

স্থানীয় ইটাখুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মেহের আলী ও লুৎফর রহমান বলেন, আগে বিভিন্ন স্থানে এই খেলাগুলো দেখা যেতো। কিন্তু এখন সচরাচর আর এসব খেলা দেখা যায় না। প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে এই খেলা। দীর্ঘদিন পরে আবারো আমাদের গ্রামে এমন খেলার আয়োজন করায় বেশ খুশি হয়েছি। বিশেষ করে মেয়ে ও বাবার ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতা এই প্রথমবারের মতো দেখছি। খুব উপভোগ করছি।

স্থানীয় যুবক সিদ্দিক হোসেন ও খালেক মিয়া বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে এর মাইকিং করা হয়েছে। এই এই খেলাকে ঘিরে আমাদের এই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে জামাইসহ নিকট আত্মীয়-স্বজনরা আসছেন খেলা দেখতে। একইভাবে আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলাগুলো থেকেও অনেক মানুষ আসেন এই খেলা দেখতে।

খেলা দেখতে আসা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নিলিমা আকতার ও সেলিনা নার্গিস বলে, জীবনে প্রথমবার এমন খেলা দেখতে এসে আমরা অনেক খুশি। প্রতিবছর যেন এমন খেলার আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া জহুরুল ও নাসিম বলেন, আমরা প্রতিবছর এই খেলায় অংশগ্রহণ করি। যেখানেই এই খেলা হয় আমরা সেখানে অংশ নেই। খেলা দেখিয়ে আমরা পুরস্কার পাই, এতে আমাদের বেশ ভালো লাগে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ঘোড় দৌড় খেলা গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সেই খেলাকে পুনরুদ্ধার করতে ও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, এমন আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এই খেলাকে ধরে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –