• শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ছুটির দিনে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: আইজিপি বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণ গম রফতানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিল্প-কারখানায় এলাকাভেদে সাপ্তাহিক ছুটি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

দিনাজপুরে দিন দিন চা চাষ বাড়ছে

প্রকাশিত: ৮ মে ২০২২  

চা চাষের উপযোগী পাহাড়ি ঢালু জমি নয় দিনাজপুরের সমতল ভূমিতেই দিন দিন বেড়ে চলেছে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে ধান-ভুট্টা চাষের জমিতে এবার চা চাষ করছেন ফজলে রাব্বী। কৃষি নির্ভর দিনাজপুর জেলায় জলোচ্ছ্বাস, ঝড়সহ প্রাকৃতিক তেমন দুর্যোগ নেই। মাটিও উর্বর। ধান-লিচুসহ ফসল উৎপাদনও বেশী। দেশের খাদ্য ঘাটতিতে যথেষ্ট অবদান রাখছে এ জেলা। 

এরপরেও ধান-লিচু-ভুট্টার পাশাপাশি দিনাজপুরের সমতল ভূমিতে চা চাষের সাফল্যে দিন দিন বেড়েই চলেছে চা চাষ। পতিত জমি ছাড়াও অনেকে ধানের জমিতেও এই চা চাষ করেছেন কৃষক। চা চাষও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে শুরু করেছে এ অঞ্চলের চাষিরা।

হিমালয়ের পাদদেশে দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযুক্ত থাকায় চা ভাল উৎপাদন হওয়ায় পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর সাফল্যের পর দিনাজপুরেও চা চাষ শুরু হয়। আগামীতে এ চা চাষও বদলে দিতে পারে দিনাজপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। চা চাষ তৈরি করেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

বোচাগঞ্জের প্রথম চা চাষি ফজলে রাব্বি। সাড়ে তিন বছর আগে চা চাষ শুরু করেন। তার নিজস্ব জমিতে এখন সবুজ চা পাতায় ভরে গেছে। চা বাগান দেখে অনেকে চা বাগান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন শুরু করেছেন। অনেকে চা বাগানের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ছবি, সেলফিও তুলছেন। তবে বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তা এসেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন কিন্তু কোন আর্থিক সুবিধা পায়নি বলে জানান বোচাগঞ্জ উপজেলার রনগাঁও ইউনিয়নের খনগাঁও গ্রামের চা চাষি ফজলে রাব্বি।  

বোচাগঞ্জের চা চাষি ফজলে রাব্বির জানায়, সাড়ে তিন বছর আগে পঞ্চগড় থেকে চা গাছের চারা এনে তার নিজস্ব জমিতে পরীক্ষামূলক বপন করে। তার ৩ একর (৯ বিঘা) জমিতে প্রায় ১৮ হাজার চায়ের গাছ আছে। এর সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। গত ২বছর থেকে চা পাতা বিক্রি করছি। বছরে কমপক্ষে ৮বার চা পাতা বিক্রি করা যায় এবং প্রতিবারেই চা পাতা বেশী পাওয়া যায়। বর্তমান তিনি ৪৫-৫০দিন পর চা পাতা বিক্রয় করেন। একটি চা কোম্পানি বাগানে এসে চা পাতা নিয়ে যায়। প্রতি কেজি চা পাতা ১৬-২৭ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি চা পাতা ১৮ টাকা। 

চা বাগান করার ফলে এলাকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। গত এপ্রিলে তিনি ২ হাজার ২শ কেজি চা পাতা বিক্রয় করেন। আগামী সপ্তাহে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কেজি চা পাতা বিক্রি করতে পারবো আশা করছি। চা পাতা দিন দিন বাড়তে থাকে। চা বাগানের ভিতরে আমলকীর গাছ রোপণ করেছে। তিনি আরও বলেন, এটার উদ্যোক্তা মূলত আমার বড় ভাই প্রভাষক ফজলে মুকিম। 

ফজলে রাব্বীসহ কয়েকজন চা চাষি জানান, চা বাগানে নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করতে হয়। বর্ষা মওসুমে বাগানে যেন পানি না জমে, সেজন্য গাছের গোড়া উঁচু করে দিতে হয়। চা গাছের ছায়া দিতে মাঝে মধ্যে লাগানো যেতে পারে পেয়ারা, নিম, আমলকি, আম ইত্যাদি গাছ। এ ছাড়াও খরার সময় পানি দিয়ে গাছ সতেজ রাখতে হয়। তবে লাল মাকড়সা ও মশা চা পাতা যেন না খেয়ে ফেলে, তার জন্য ওষুধ ছিটানো প্রয়োজন। 

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরিফ আফজাল জানায়, কৃষক ফজলে রাব্বি তার বড় ভাইয়ের পরামর্শে প্রথম বোচাগঞ্জ উপজেলায় চা বাগান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমান তিনি চা বাগানী হিসেবে সফল কৃষক। তাকে দেখে ইতিমধ্যে আরেক কৃষক এক একর জমিতে চা আবাদ শুরু করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করছি। 
#বিডি প্রতিদিন

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –