• শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

  • || ১৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সর্বশেষ:
গণসংগীতে ফকির আলমগীরের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে- প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য হাড়িভাঙা আম উপহার পাঠালেন শেখ হাসিনা দেশে করোনা টিকা নেওয়ার বয়সসীমা ১৮ হবে- স্বাস্থ্যের ডিজি করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হচ্ছে- এডিবি সীমিত পরিসরে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে উচ্চ আদালত

‘ধর্মকে কলুষিত করার চেষ্টা করছেন সাম্প্রদায়িক শক্তি’

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২১  

দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি সরকার ক্ষমতায় না থাকতো, বোধকরি চারণ কবি এই সমাবেশ এর আয়োজন করতে পারতো না। কারণ বিভিন্ন প্রকার অপশক্তি যারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিথ্যার দিয়ে আমাদের অগ্রগতিকে রোধ করাবার চেষ্টা করে, এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর কথা বলে। ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক শক্তি অপপ্রচার করবার চেষ্টা করছেন। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মকে কুলষিত করবার চেষ্টা করেন এই সাম্প্রদায়িক শক্তি।

গতকাল রোববার বিরলের ধর্মপুর ইউপি’র কালিয়াগঞ্জ শালবনে বাংলাদেশ জাতীয় চারণ কবি সংঘের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২ দিন ব্যাপী আয়োজিত আলোচনা সভা এবং মা-মাটির টানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল উপরোক্ত কথাগুলি বলেন।

এমপি গোপাল আরো বলেন, ১৯৭২ সালে পাকিস্তানি কারাগার থেকে ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে এসেছিলেন। এ দিনে তাঁর প্রিয় মাটিতে তিনি পা রেখেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। আজকের যে বাংলাদেশের অগ্রতি তা জাপানের প্রধানমন্ত্রী এসে অবাক হোন। অমর্ত্য সেন মন্তব্য করতে এসে বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জ করবে। আমাদের জাপানের প্রধানমন্ত্রী এসে বিস্ময়ে বিস্মিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনার হাতে কি কোন চেরাগ আছে, যে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে আপনার দেশকে আপনি এভাবে পাল্টে দিয়েছেন! এ উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে কথাটি তিনি বলেন সেটি হচ্ছে এই পরিকল্পনা চিন্তা কোনটি আমার না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি যে পথ নিদর্শন করেছেন, আমার কেবলমাত্র সে পথেই চলা। কাজেই উনি যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে আমরা যে উন্নত অর্থনীতির দেশের কথা কথা বলছি ক্ষুধা মুক্ত দেশের কথা বলছি একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলছি একটা নিরক্ষরমুক্ত বাংলার কথা বলছি সে বাংলা অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত হতো। সে মহান নেতা তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন এদিনে। যে কথাটি আমি বলছিলাম, আজকের এ অগ্রগতিকে রোধ ককরবার জন্য একটি শ্রেণি বারবার অপব্যাখ্যা দেয়। ৫৪ সালে যখন আমরা যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন করি তখন নৌকায় ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে বলা হলো! ৭১ সালে বলা হলো যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন, যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা সব জারয সন্তান। এমন কথাও বলা হলো, এটা মুক্তিযুদ্ধ না, এটা ইন্ডিয়ান দালালদের একটা তান্ডব এবং এতকিছু করার পরও আমার মুক্তি পাগল বাঙালিকে কোনভাবে স্তিমিত করা যায়নি। ৩০ লক্ষ মানুষ রক্ত দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, একটি ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ, মুক্তমত প্রকাশের বাংলাদেশ, নিরক্ষর মুক্ত এমন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য রক্ত দিলো। আমার একটি স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করলাম। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তীতে যখন পদার্পণ করছি, আমরা মুজিব জন্মশতবার্ষিকী যখন উদযাপন করছি, সেসময়ও আমাদের কষ্ট হয়, বিভিন্ন প্রকার ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামকে সামনে হাজির করে, তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত হানার দুঃসাহস পেয়েছেন। এই দুসাহসও তারা দেখিয়েছেন, এমন কথা তারা বলেন যে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবো এবং ধর্মকে ব্যবহার করে তারা অপধর্ম তারা প্রচার করবার চেষ্টা করেন। 

বাংলাদেশ জাতীয় চারণ কবি সংঘের সভাপতি এম এ কুদ্দুস সরকার এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজ এর বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান গবেষক ড. মাসুদুল হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় বাউল সমিতির চেয়ারম্যান দেওয়ান আব্দুল লতিফ সরকার, থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাসিম হাবিব, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক বিভূতি ভূষণ সরকার, ধর্মপুর ইউপি'র চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র সরকার, রাণীপুকুর ইউপি'র চেয়ারম্যান ফারুক আজম, পলাশবাড়ী ইউপি'র চেয়ারম্যান আব্দুস শুকুর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ধর্মপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র সরকার। পরে রাতব্যাপী মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা পরিবেশিত হয়।

২ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানে প্রথম দিন রোববার সকাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চারণ কবি সংঘের সদস্যগণের রেজিষ্ট্রেশন, উন্মুক্ত পরিবেশনা, ভূরী ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার দ্বিতীয় দিনে একইস্থানে দিনব্যাপী কবি ও বাউল গানের পরিবেশনা শেষে রাতে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় যাত্রাপালা অনুষ্ঠিত হবে।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –