• মঙ্গলবার   ০৯ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৫ ১৪২৯

  • || ১০ মুহররম ১৪৪৪

সর্বশেষ:
বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশকে আরো ১৫ লাখ টিকা দিলো যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়ায় গেল বাংলাদেশি ৫৩ কর্মীর প্রথম ফ্লাইট অনেকটা নিরুপায় হয়েই জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে সরকার: জয় আওয়ামী লীগ বিএনপির ওপর কোনো অত্যাচার করেনি: তোফায়েল আহমেদ

নবাবগঞ্জে স্বপ্নের নীড়ে ঠাঁই পেয়েছে ৯৯১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২২  

নবাবগঞ্জে স্বপ্নের নীড়ে ঠাঁই পেয়েছে ৯৯১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার       
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে স্বপ্নের নীড়ে ঠাঁই পেয়েছে ৯৯১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। কদিন আগেও যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। তাদের স্বপ্ন ছিল নিজেদের একটি বাসস্থানের কিন্তু ছিল না সাধ্য। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে ছিন্নমূল এসব মানুষ পেয়েছেন তাদের স্বপ্নের নীড়। স্বপ্ন নয় বাস্তবে এখন বসবাস করছেন তাদের স্বপ্নের নীড়ে। পাল্টে গেছে তাদের জীবনযাত্রা। 

উপজেলার ডাংশেরঘাট আশ্রয়ন কেন্দ্রের উপকারভোগী স্বামী পরিত্যাক্তা আক্তারিমা বলেন, বিগত প্রায় ১০ বছর আগে আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে যান। দরিদ্র বাবার বাড়িতে থাকার মতো কোনো জায়গা না থাকায় উপজেলা সদরে বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক সন্তানসহ কষ্টে বসবাস করছিলাম। শিশুদের কোরআন শিখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এতে কোনো রকমে সংসার চললেও বাড়ি ভাড়া দেওয়া আমার জন্য ছিল খুবই কষ্টকর ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ন কেন্দ্রে একটি ঘর পেয়েছি। এখন আমিস সেখানে আশ্রয়নের শিশুদের কোরআন শিক্ষাসহ একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে সংসারে সচ্ছলতা পেয়েছি। 

শারীরিক প্রতিবন্ধী ফেরদৌসী বেগম জানান, এখন তার বয়স ৪৫ বছর। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিয়ে হয় নাই। প্রায় ২০/২২ বছর আগে তার বাবা-মা মারা যান। বাবা-মা মারা যাওয়ার পরে দরিদ্র ভাইদের বাসায় থাকতেন তিনি। কিন্তু ভাইদের সন্তানেরা বড় হওয়ায় সেখানে থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। তিনিও ডাংশেরঘাট আশ্রয়ন কেন্দ্রে একটি গৃহ বরাদ্দ পেয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাড়িঘর না থাকায় আগে নিজেকে ছোট মনে হতো, ছিল না সামাজিক মর্যাদা। এখন আমার নিজের একটি ঠিকানা তৈরি হয়েছে, নিজেকে আর ছোট মনে হয় না।’  
 
আক্তারিমা ফেরদৌসীর মতো আরও অনেকেই সমাজের অবহেলিত ভূমিহীন ও গৃহহীন বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা, প্রতিবন্ধীসহ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির নানা শ্রেণির মানুষ পেয়েছেন তাদের স্বপ্নের নীড়, মাথা গোঁজার ঠাঁই। সমাজে তাদের আত্মমর্যাদা বেড়েছে। পরিবারের শিশুগুলো স্কুলে লেখাপড়া করছে। বিভিন্ন কর্মমুখী কাজের মাধ্যমে এখন তারা আয় করছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ সোম বলেন, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ২ শতক জমিসহ ৯৯১টি গৃহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে যাদের কোনো জমি নাই এবং বাড়িও নাই অর্থাৎ “ক” শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন আর কোনো পরিবার না থাকায় এ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

৪শ বর্গ ফুট আয়তনের ২ কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা একক গৃহ ও ঘরে সুপরিসর টানা বারান্দা এবং পেছনে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের পাশপাশি পুনর্বাসিতদের নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়নের উপকারভোগীদের কর্মসংস্থান তৈরি ও জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসনের সব দপ্তর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ হচ্ছে। 

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –