• বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭

  • || ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

সর্বশেষ:
‘সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর’ কুড়িগ্রামে ট্রলিচাপায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নিহত ছদ্মবেশে সরকারি অফিস থেকে দালাল ধরলেন ম্যাজিস্ট্রেট ভঙ্গুর সাংগঠনিক অবস্থার কারণে নিশ্চিহ্নের পথে বিএনপি চীনা বা ভারতীয় ঋণের ফাঁদের গল্প তথ্যভিত্তিক নয়- পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নাটক ‘শিখণ্ডী কথা’র ৪৬তম মঞ্চায়ন করলো রংপুর নাট্যকেন্দ্র

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২০  

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দর্শক ভর্তি মিলনায়তনে জনপ্রিয় নাটক ‘শিখণ্ডী কথা’র ৪৬তম মঞ্চায়ন করেছে রংপুর নাট্যকেন্দ্র। হিজড়াদের আনন্দ হাসির আড়ালে ভয়ানক এক যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি ফুটে নাটকটিতে।

গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সোয়া আটটায় রংপুর টাউন হল মঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। এটি ছিল নাট্যকেন্দ্রর ২২ বছরপূর্তি উপলক্ষে নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনের পরিবেশনা। নাট্যোৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু। সম্মানিত অতিথি জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. হামিদুর হক খন্দকার, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য (রাজশাহী বিভাগ) মিজানুর রহমান, কবি দিলরুবা শাহাদত, বাংলার চোখ'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাট্যকেন্দ্রের সভাপতি মাহবুবুল আলম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক মুরাদ।
মঞ্চস্থ করা ‘শিখণ্ডী কথা’ নাটকের পান্ডুলিপিকার আনন জামান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। প্রয়োগকার ছিলেন আর্য শশাঙ্ক।

‘শিখণ্ডী কথা’ হিজড়া সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখ কথামালায় গাঁথা গবেষণালব্ধ নাটক, একথা বলেন এর প্রযোজনা সমন্বয়কারী রাজ্জাক মুরাদ। তিনি জানান, ‘শিখণ্ডী কথা’ নাটকে হৃদয় ছোঁয়া সংলাপ গাঁথুনিতে উচ্চারিত হয়েছে হিজড়াদের আনন্দ-হাসির আড়ালে ভয়ানক এক যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। জন্মই যেন তাদের আজন্মের পাপ। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ মানুষ, নারী কিংবা পুরুষ নয়, শুধুই মানুষ। যা নাটকের কাহিনী ও শিল্পীদের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।
শ্যামা, বুলারী, ছোটকী, বেলা, ছোট রতন, নিতাইসহ বিভিন্ন চরিত্রে ২৭ জন শিল্পী মঞ্চে 'শিখণ্ডী কথা'র পরিবেশনে অভিনয় করেন। নেপথ্যে ছিল আরও সাত জন। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মহড়াসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শুক্রবার রাতে পৌনে দুই ঘণ্টার নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়। কলাকুশলীদের মেকআপ, পোশাক সজ্জা, সংলাপ, নৃত্য আর সঙ্গীতের সুরের সাথে মঞ্চে আলোক প্রক্ষেপণে নাটকটি মন কাড়ে দর্শকদের।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর সংগঠনে বিশেষ অবদানের জন্য আল আমিন, গোলাম মোস্তফা ও মুবাশশিরা রহমান বুশরাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুল আলম খানকে।

এদিকে নাটক শুরুর পূর্বে দর্শকদের বাধ্যতামূলক মুখে মাস্ক পরিধান করে টাউন হলে প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়। প্রত্যেককে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়। বসার ক্ষেত্রেও একটি করে সিট খালি রেখে পরের সিটে বসেছিলেন নাট্যানুরাগী দর্শকশ্রোতা।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –