• বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১২ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সর্বশেষ:
কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এ বছরই ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব পঞ্চগড়ে ১ ঘন্টার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন স্কুল ছাত্রী! চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল লাইনে বাংলাদেশের ইঞ্জিনের মহড়া অনুষ্ঠিত নীলফামারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বন্ধু নিহত

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার- আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২০  

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত রয়েছে সমাজ-সভ্যতার ক্রমবিকাশ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সে জন্য মানসম্পন্ন বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীতে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চার তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের উন্নয়ন হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের চার মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা হবে।

অবকাঠামো নির্মাণ করাই বিচার বিভাগের শেষ দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়বিচার জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আসল সম্মান কিন্তু আমরা পাব না। তাই বিচার বিভাগের সবাইকে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা-যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হলে বিশেষ করে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এজলাসের অপ্রতুলতা দেখা দেয়। ফলে বিচারকরা এজলাস ভাগাভাগি করে বিচারিক কাজ চালাতে থাকেন। কিন্তু তাতে করে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হতে থাকেন, তেমনি মামলার জট দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং পৃথকীকরণকে সুদৃঢ়, দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই করার জন্য বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন।

মন্ত্রী বলেন, এজলাস ভাগাভাগি সমস্যা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মিটানোর জন্য আদালত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় এবং তা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন।

ভবনটি ১২ তলা ভিত্তির ওপর নির্মিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ চার তলা ভবন উদ্বোধনের ফলে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীর দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে। এটাকে আট তলা করা হবে এবং আগামী বছরই অবশিষ্ট ৪ তলার নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তখন দুর্ভোগ পুরোপুরি কেটে যাবে। 

মন্ত্রী বলেন, এই আদালত ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য তখনই সফল হবে যখন বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই স্ব-স্ব দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করে দ্রুত ন্যায়বিচারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন।

পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ রোখসানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- পটুয়াখালী জেলার এমপি মো. শাহজাহান মিয়া, আ স ম ফিরোজ, এসএম শাহজাদা ও মো. মহিববুর রহমান, এমপি কাজী কানিজ সুলতানা, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ মইনুল হাসান প্রমুখ বক্তৃতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –