• বুধবার   ১৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪২৯

  • || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩

সর্বশেষ:
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ বিরলে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত সমালোচনাকারীদের দেশ ঘুরে উন্নয়ন চিত্র দেখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর জুলাইয়ে পদ্মা সেতুতে রেললাইনের কাজ শুরু: রেলমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ: পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

পানচাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন খানসামার চাষিরা

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২২  

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পান চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের খানসামার চাষিরা। চাষে সাফল্যও পেয়েছেন তারা। তাই দিন দিন পানের বরজের সংখ্যাও বাড়ছে। 

খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নে এই পানের বরজ তুলনামূলক বেশি। গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামের এই পানচাষকে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া আর্শীবাদ মনে করে চাষীরা। গত ১০ বছর থেকে বর্তমানে খানসামায় পানের আবাদ বেড়ে প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, উপজেলায় বানিজ্যিক ভিত্তিতে ৭.৬ একর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার দুবলিয়া গ্রামেই ৯৫ ভাগ পান চাষ করা হয়। বর্তমানে উপজেলার ৩০টি পরিবার এই পান চাষের সাথে জড়িত।

দুবলিয়া গ্রামের পানচাষি ক্ষিতিশ রায় বলেন, আমাদের এখানে মিষ্টি ও সাচি পান চাষ করা হলেও মোট চাষের ৮০ ভাগই মিষ্টি পান চাষ করি আমরা। এখানকার সব পরিবার এক সময় ব্যবসা আর শখের বসে পানের বরজে পান চাষ শুরু করেন। গ্রাম কিংবা শহরে অতিথি আপ্যায়নে এ পানের এখনো চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও চুন ছাড়া পান পাতার রস আর কাঁচা সুপারির রস হার্টের উপকারিতা ছাড়াও ছাঁচি পানের রস দিয়ে যৌনরোগের ওষুধ তৈরি করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গ্রামের কবিরাজরা বেশ নাম রেখেছে।

একই এলাকার আরেক পানচাষি রঞ্জনা রায় বলেন, পান চাষ করেই আমাদের সংসার চলে। আমি ও আমার স্বামী দু'জনেই পানের বরজে কাজ করি। ৩২ বছর ধরে পানের বরজ করে আসছি। বর্তমানে ২৩ শতক জমিতে পানের বরজ রয়েছে। প্রতিহাটে সপ্তাহে দুই দিন ১৩-১৫ হাজার টাকার পান বিক্রি করি। 

দিনাজপুর থেকে দুবলিয়া গ্রামে পান কিনতে আসা পান ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ জানান, এখানকার পান সুস্বাদু হওয়ায় এ পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমি দীর্ঘ দিন ধরেই এ এলাকা থেকে পান কিনে বাজারজাত করি। তারা পান চাষ করে এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। 

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় বলেন, খানসামা উপজেলার মাটি পান চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পানের চাষ করে চাষিরা। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রামের চাষীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পানের চাষ শুরু করেছে। প্রতি বছর পানের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সকল প্রকার পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –