• শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ২ ১৪২৮

  • || ০৮ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
১ কোটি ৪২ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজের আওতায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন খাঁটি পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমিক- পরিবেশমন্ত্রী `ঘরে ঘরে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পৌঁছে গেছে` মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ২৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রী `স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব পালিত হবে তৃণমূল পর্যন্ত`

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে জীবিকার রসদ   

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২১  

আব্দুল সালাম ফুলবাড়ি উপজেলার খয়েরবাড়ি গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন তিনি। গ্রামে আড়াই শতাংশ জমির ওপর নিজের একটি বাড়ি থাকলেও সরল বিশ্বাসে ছেলের নামে লিখে দেয়ার পর থেকেই নানানভাবে অবহেলিত হতে থাকেন। এরই মধ্যে ডায়াবেটিসসহ লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে তার। ছেলের অবহেলার কারণে ভাড়া বাসায় গিয়ে ওঠার মতো সক্ষমতাও নেই তার। চারদিক যেন অন্ধকার হয়ে আসতে শুরু করল আব্দুল সালামের। হঠাৎ তিনি প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার দেয়ার খবর শুনতে পান। আবেদন করার পর ঘরও পেয়ে যান। ঘর নয় যেন নতুন করে বাঁচার রসদ খুঁজে পেলেন তিনি।

সারি সারি কলা, মাল্টা, কমলা, আনার গাছ আর মাচা ভর্তি লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা ও শিম গাছ দেখে যে কারোর পুরোদস্তুর একজন কৃষকের ঘর মনে হতে পারে। কিন্তু এটি যার ঘর তিনি মোটেও একজন কৃষক নন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের আব্দুল সালামের ঘর এটি।

রংপুর বিভাগের সর্ববৃহৎ আবাসন প্রকল্প দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বালুপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শাখা যমুনা নদীর তীরঘেঁষে একই জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২৫৩টি বাড়ি নির্মাণ করে একটি নতুন আদর্শ গ্রাম স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগও দেয়া হয়েছে। এই গ্রামের মাঝে রয়েছে একটি খেলার মাঠ, গ্রামের পাশ দিয়ে এখনো অনেক ফাঁকা জায়গাও পড়ে রয়েছে। সেই জায়গায় আবাসনের বাসিন্দারা গড়ে তুলেছেন মৌসুমি সবজির বাগান। বাড়ির সঙ্গে ঘর করে কেউ কেউ গবাদিপশু পালনও শুরু করেছেন।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘এই ঘর পাওয়ার আগে যে হতাশা আর দুঃখ-কষ্টে ছিলাম তা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন যদিও একবেলা ডাল-ভাত খেয়ে থাকি তবুও শান্তিতে এই ঘরে ঘুমাতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই ঘরে আসার পর থেকে অবসর সময়টা কাটানোর জন্য বিভিন্ন রকম গাছ লাগাতে শুরু করি। পাশের জমি থেকে মাটি তুলে ঘরের চারপাশটা ভরাট করি। তারপর কলা, মাল্টা, কমলা, আনারসহ বিভিন্ন ফলের গাছ লাগাই। লাউ, কুমড়া, শিমগাছের জন্য মাচার ব্যবস্থা করে দিই। এখন মাচা ভর্তি লাউ-কুমড়া ধরেছে। নিজে এগুলো খাচ্ছি আর প্রতিবেশীদেরকেও দিচ্ছি। আশা করছি লাউ, শিম আর মিষ্টিকুমড়া কিছুদিন পর বিক্রি করে কিছ টাকা আয় করতেও পারব। আসলে ঘর নয়, আমি যেন নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে পেয়েছি।’

সালামের স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, ‘ঘর পাওয়ার পর থেকে এখন আমরা ভালোই আছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রতিদিন দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন, অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখেন।’

আব্দুস সালামের প্রতিবেশী কল্পনা বেগম বলেন, ‘সালাম ভাইয়ের গাছগুলো দেখে আমি তো বেশ অবাক হয়ে গেছি। এত অল্প সময় আর অল্প জায়গার মধ্যে এত সুন্দর একটা বাগান করেছেন তিনি! আমিও আমার ঘরের পাশে গাছ লাগাব।’

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় এই উপজেলায় ৯৬৯টি ঘর বরাদ্দ করা হয়। এসব বাড়ি পেয়েছেন প্রতিবন্ধী, সমাজের অসহায় ও ভূমিহীনরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘আবাসনের বাসিন্দাদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনেককে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যাতে করে তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘরে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভশীল হতে পারেন।’

জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, এই ঘরগুলো ভূমিহীনদের জন্য দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর। এসব ঘর নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। পাশাপাশি প্রকৃত ভূমিহীনরা যেন এই ঘর বরাদ্দ পান সেজন্য জেলা মনিটরিং কমিটি কাজ করছে।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –