• সোমবার   ০৮ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭

  • || ২৪ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: প্রধানমন্ত্রী আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস করোনার এক বছর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সফল চেষ্টায় এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে সর্বনাশা এই বৈশ্বিক মহামারির অভিশপ্ত ছোঁয়া নারী দিবসে শ্রেষ্ঠ ৫ জয়িতা পেলেন সম্মাননা

ফেলে দেয়া ‘চুলে’ বাড়তি আয় করছেন দিনাজপুরের নারীরা

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

নারী-পুরুষ সবাই চুল কাটান। কেউ প্রয়োজনে আবার কেউ স্টাইল করতে। সেই ফেলে দেয়া চুলেই স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের কয়েকশ নারী। সেলুন কিংবা পার্লারে গিয়ে কেটে ফেলা চুল দিয়ে ‘পরচুলা’ বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরি করে বাড়তি আয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান পেয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার নবাবগঞ্জ, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাটের কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে ‘পরচুলা’ বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা। এসব কারখানায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকশ বেকার নারীর। এখন প্রতি মাসে ৫-৭ হাজার টাকা আয় করছেন তারা। আর তাদের হাতের কারিশমায় তৈরি ‘পরচুলা’ বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ রফতানি হচ্ছে চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট উপজেলায় বেকার নারীরা টাক মাথা’র জন্য ব্যবহার করা এসব পরচুল তৈরী করে গ্রামের শতাধিক হত দরিদ্র নারী ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করছেন।
ছয় মাস আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা, ভাদুরিয়া, বিরামপুর, ঘোড়াঘাটের রাণীগঞ্জ গ্রামে ‘পরচুলা’ বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির কারখানা স্থাপন করেন মো তারেক হোসেন ও তার দুই বন্ধু। মেসার্স সায়মা হেয়ার এন্টারপ্রাইজ উইগ নামে এ কারখানায় নিজেদের আয়ের উৎস খুঁজে পান শত শত শিক্ষিত বেকার নারী।

মেসার্স সায়মা হেয়ার এন্টারপ্রাইজ উইগ কারখানার কর্মী শাহিনা বেগম বলেন, আমি ও আমার স্বামী ঢাকায় একটি গামের্ন্টেস কাজ করতাম। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের চাকরি চলে যায়। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে গ্রামে চলে আসি। নানা দুশ্চিন্তার মধ্যে আমাদের গ্রামেই হেয়ার ক্যাপ তৈরির কারখানার সন্ধান পাই। সেখানেই প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাই। এখন প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মো. রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘পরচুলা’ বা ‘হেয়ার ক্যাপ’ তৈরির শিল্প এলাকায় আসার কারণে শিক্ষিত বেকার নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য কিছু চুল, সুই-সুতাসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে গ্রামের হতদরিদ্র ২০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেন। এরপর আর ওই কারখানার মালিক কিংবা কর্মীদের পেছনে তাকাতে হয়নি। উপজেলার প্রতিটি বাড়িই এখন একেকটি মিনি কারখানা।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জানান, জেলার কয়েকটি উপজেলায় হেয়ার ক্যাপ তৈরি হচ্ছে। বিদেশে এই হেয়ার ক্যাপের চাহিদা রয়েছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে পারলে এ শিল্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। আরো অনেক বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হবে।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –