• রোববার ২১ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৬

সর্বশেষ:
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই আইন হিসেবে গণ্য হবে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী। ২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত।

বর্ষায় ছাতা কারিগরদের কদর বেড়েছে

প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৪  

চলছে বর্ষাকাল। প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত না হলেও এখন থেমে থেমে, আবার কখনো একটানা মুষলধারে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এসময়ে ঘরের বাইরে পা রাখতে প্রথমেই সঙ্গে নিতে হয় ছাতা। সেই ছাতা যদি ব্যবহারে ফুটো কিংবা ভাঙা হয় তখনই বিপত্তি। আর এই বিপত্তির কবল থেকে পরিত্রাণ পেতে ছুঁটে সবাই ছাতা মেরামতকারী কারিগরদের কাছে। 

কিন্তু ছাতা মেরামত বছরের অন্যান্য সময় নাই। দাম কম হওয়ায় ছাতা নষ্ট হয়ে গেলে অনেকেই আর মেরামত করেন না। তারা আবার নতুন ছাতা কিনে নেন। পূর্বে কাঠের হাতলওয়ালা ছাতার প্রচলন ছিল। গ্রামের লোকেরা ওই ছাতা ব্যবহার করতো। সেই ছাতাও তৈরি হতো। কিন্তু এখন আর সেইদিন নেই। কাঠের ছাতার কারিগরদের দুর্দিন চলছে। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশাই গেছে।

তবে বর্ষায় ভরসা এসব কারিগররা। তাই সুদিন এখন কারিগরদের। বছরের অন্য সময়ে ছাতা মেরামতের কাজ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। প্রতিদিন ৫০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করে থাকেন একেকজন কারিগর। তবে দিন দিন এই পেশার কারিগররা হারিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আগে ছাতা মেরামতের কারিগর ছিল না। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাতা মেরামত করতে এই এলাকায় আসতেন কারিগররা। জৈষ্ঠ্য মাসের শেষ দিকে এসে আশ্বিন মাসের শেষ দিকে চলে যেতেন। বেশিরভাগ মাদারীপুর, চাঁদপুর, ফরিদপুর ও বিক্রমপুর থেকে আসত ছাতার কারিগররা। তারা বিভিন্ন হাট-বাজারে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে ফুটো কিংবা ভাঙা ছাতা মেরামত করতেন। ছাতার কারিগরদের সারা বছর কদর না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে তাদের বেশ চাহিদা থাকে। বর্ষা এলেই কদর বৃদ্ধি পায় তাদের। 

রানীর বন্দরের দরগাহপাড় মসজিদ চত্বরে ছাতা মেরামতকারী নশরতপুর গ্রামের মো. নুরুজ্জামান জানান, বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে কাজের চাপ একটু বেশি। বৃষ্টির সময় ছাড়া ছাতা মেরামতের কাজ থাকে না। এসময় আয় মোটামুটি ভালো হলেও অন্য সময় বেকার বসে থাকতে হয়। যেদিন বৃষ্টি হয় সেদিন ছাতা মেরামতের কাজ হয়ে থাকে। বাকি দিনগুলোতে অন্য কাজ-কাম করে থাকি। ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। তাদের খরচসহ পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ পেশায় আমার পরে আর কেউ আসবে না।

আলোকডিহি ইউপির গছাহার গ্রামের মেম্বারপাড়ার আব্দুর রহমান জানান, বর্তমানে ছাতা মেরামত করে আয় সামান্য। ছাতার সিক লাগাই। কাপড় সেট করি। ছাতা মেরামত করে দৈনিক ২০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ টাকায় সংসার চলে না। পিতৃ পুরুষের এ পেশা ছাড়তেও পারি না। 

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –