• বুধবার   ২৩ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৯ ১৪২৮

  • || ১২ জ্বিলকদ ১৪৪২

সর্বশেষ:
আজ ২৩ জুন এ দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

রংপুরে চলতি জুনে শুরু হচ্ছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১  

রংপুর বিভাগে চলতি জুনে শুরু হচ্ছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ। নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে সেচের পানি নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে এই সেচ প্রকল্পের কাজ খুব শিগগির শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের আওতায় রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার ১২ উপজেলায় এই সেচ প্রকল্পের কাজ রয়েছে। এ প্রকল্প এলাকায় নতুন করে সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে, এমন খবরে এ অঞ্চলের চাষিরা খুশি। পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। এ ছাড়া ৫ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের এলাকা ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর এবং সেচযোগ্য এলাকা ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর। প্রকল্পটির আওতায় ৭৬৬ কিলোমিটার সেচখালের পাড় শক্তিশালী করা হবে। ৭২ কিলোমিটার সেচপাইপ স্থাপন করা হবে। স্লোপ প্রোটেকশন দেওয়া হবে ১০ দশমিক শূন্য ৮ কিলোমিটার। বাইপাস সেচখাল নির্মাণ করা হবে ৭ দশমিক ১৩ কিলোমিটার। ২৭টি কালভার্ট নির্মাণ, জলাধার পুনঃখনন ২৭০ হেক্টর এবং সাড়ে ৯ কিলোমিটারের চ্যানেল পুনঃখনন করা হবে। এ ছাড়া ৫২ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামত, ২০টি রেগুলেটর নির্মাণ ছাড়াও ৮৭ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। এ ছাড়া ৫ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন অন্যান্য খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকেরা জানান, দীর্ঘ সময় তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে সেচসুবিধা পেয়ে আসছেন তাঁরা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের কৃষক সুজা মিয়া বলেন, তিস্তার সেচের পানি নিতে বছরে বিঘাপ্রতি জমির জন্য ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এত কম টাকায় সেচসুবিধা আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

একই এলাকার মণ্ডলপাড়া এলাকার কৃষক মোজাহার আলী বলেন, ‘শুনছি, সেচসুবিধা এলাকা আরও বাড়ানো হচ্ছে। তাতে এ অঞ্চলের কৃষকদের ধানসহ বারো মাসে অন্যান্য ফসল উৎপাদনে অনেক উপকারে আসবে।’ গঙ্গাচড়া উপজেলার গুঞ্জিপুর এলাকার কৃষক রহিম শেখ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে সেচ এলাকায় এই সেচের পানি আমাদের অনেক উপকারে আসে। বছরে বিঘাপ্রতি মাত্র ৩০০-৪০০ টাকা দিয়ে থাকি। এ অঞ্চলের চাষাবাদের জন্য পানির সমস্যা হবে না।’

পাউবো উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ বলেন, প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শুরু হয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৪ সালের শেষের দিকে। তিনি আরও বলেন, ‘এ সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আমরা দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ হয়েছে। তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলে কৃষিতে বিপ্লবের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রকল্প এলাকায় পরিবেশ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের অধিকতর উন্নতি করা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত কয়েক লাখ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে।’

পাউবো রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন সুবিধাসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রংপুর জেলা সদর, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, নীলফামারী সদর, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর এবং দিনাজপুর জেলার খানসামা, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দরসহ রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুর এই তিন জেলার ১২ উপজেলায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ হয়ে আসছে। এ ছাড়া আমন মৌসুমে সম্পূরক সেচের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –