• বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩১

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সংসারের অভাব মেটাতে সৌদি, ফিরে এলো লাশ

প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৪  

সৌদি প্রবাসী এনামুল ইসলাম (২৩)। গত এক বছর আগে সংসারের অভাব মেটাতে সৌদিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বিদ্যুতিক টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন টগবগে এই যুবক। স্বপ্ন ছিল হাল ধরবেন সংসারের। তার পাঠানো টাকায় অভাব কাটিয়ে বাবা-মায়ের শেষ সময়টা কাটবে হাসিখুশিতে। তবে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরলেন এনামুল। যে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়েছিলেন প্রবাসে, সেই বাবা-মায়ের চোখ এখন ভিজছে পানিতে।

নিহত এনামুল ইসলাম দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়নের বিরাহীমপুর (খামার) গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে। ২ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। গত ১৭ মার্চ সৌদি আরবে মারা গিয়েছিলেন এই যুবক।

মারা যাওয়ার ২ মাস ১৩ দিন পর শুক্রবার রাতে ফ্রিজিং গাড়িতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে প্রবাসী এনামুলের লাশ এসেছে গ্রামের বাড়িতে। এর আগে দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিকের সহযোগিতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমানযোগে এনামুলের মরদেহ সৌদি থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায়। রাত ১১টায় নিজ গ্রামের কবরস্থানে তার দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ সৌদি আরবে কাজ করার সময় বিদ্যুতিক শক খেয়ে মারা যান এনামুল। তবে নানা জটিলতায় সেখানেই ছিল মরদেহ। অসহায় পরিবার ছেলের লাশ ফেরত পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন চোখের পানি ফেলেছেন। ঘুরেছেন বিভিন্ন দফতরের বারান্দায়। তবে তাতেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক। তার সহযোগিতায় মারা যাওয়ার ২ মাস ১৩ দিন পর দেশে আসলো এনামুলের লাশ।

শুক্রবার রাতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সে কফিনে মোড়ানো সন্তানের লাশ বাড়িতে আসার পর শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারটিতে। কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো গ্রাম। মারা যাওয়ার দীর্ঘদিন পর গ্রামে ছেলের মরদেহ দেখতে নিহতের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছিল গ্রামবাসী। অপরদিকে গ্রামের কবরস্থানে চলছিল কবর খনন ও জানাজার প্রক্রিয়া।

নিহত এনামুলের প্রতিবেশী শহিদুল ইসলাম বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। একদিকে সন্তান হারানোর শোক। অপরদিকে মারা যাওয়া সন্তানের লাশ ফেরত না পাওয়ার কষ্ট। পরিবারটি গত দুই মাসের অধিক সময় ধরে লাশ দেশে আনতে নানা চেষ্টা চালিয়েছে। তবে কোনো চেষ্টা কাজে লাগেনি। সর্বশেষ আমাদের এমপির সহযোগিতায় শুক্রবার এনামুলের লাশ বাড়িতে এলো।

দিনাজপুর-৬ আসনের এমপি শিবলী সাদিক বলেন, প্রবাসী এনামুলের পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমার এলাকার সন্তানের মরদেহ সৌদিতে পড়ে আছে শুনে আমি সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে লাশ দ্রুত দেশে ফেরানোর পদক্ষেপ নিই। নিহত প্রবাসী পরিবারের যেকোনো সমস্যায় আমি তাদের পাশে আছি।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –