ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামে আরো একজনের মৃত্যু। রংপুর নগরীতে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে সিটি কর্পোরেশন।
  • বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০২ রমজান ১৪৪২

সর্বশেষ:
রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর উদ্যোগে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় সারাদেশে দ্বিতীয় দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে সরকার বসুন্ধরার হাসপাতাল ‘উধাও’ হয়নি, বণ্টন হয়েছে- স্বাস্থ্যের ডিজি রংপুরসহ দেশের তিন বিভাগ ও দুই জেলার একাধিক স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও রংপুরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট।

সুযোগ পেলেও মেডিকেলে ভর্তির টাকা নেই মিজানুরের

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১  

লালমনিরহাটের ধরলা নদীর দূর্গম চরাঞ্চলের অদম্য মেধাবী মিজানুর রহমান এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না তিনি। অভাবকে জয় করে মিজানুর রহমান ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান। ধরলা নদী তীরবর্তী ইউনিয়নে মিজানুরই একমাত্র শিক্ষার্থী যিনি এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অথচ অর্থাভাবে সেই সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মিজানুর গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।

মিজানুরকে নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী গর্ববোধ করলেও তাদের মাঝে বিরাজ করছে অনিশ্চয়তার ছায়া। মিজান শেষ পর্যন্ত লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে কিনা এমন চিন্তায় এখন পুরো পরিবার।

২০১২ সালে মারা যান মিজানুরের বাবা মফিজ উদ্দিন। তখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছয় সন্তানকে নিয়ে চরম অর্থাভাবে পড়েন মা জোবেদা বেগম। জায়গা জমি বলতে কিছুই নেই। মাত্র ৮ শতক জমির ওপর বসতঘর।

নবম শ্রেণি থেকে প্রাইভেট টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যান মিজান। ধারদেনা, মায়ের মুষ্টির চাল আর অন্যের সাহায্য সহযোগিতায় এতদূর এগুতে পারলেও এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। মেডিকেলে ভর্তি ফিসহ আগামী পাঁচ বছরের পড়াশুনায় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।

মা জোবেদা বেগম বলেন, বাহে, হামার কিচ্ছু নাই। না খেয়ে ছেলেকে পড়ালেখা করাইছি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ছোট ছেলেকে পড়াশুনা করে এত দূর নিয়ে আসছি। ডাক্তারি পড়ানোর এত টাকা হামা কই পামো? ডাক্তারি ভর্তি ও প্রতি মাসের টাকা এখন কিভাবে যোগাড় হবে তা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে।

তিনি সমাজের বিত্তশীল লোকদের কাছে সন্তানের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।

চর কুলাঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান, নিজের চেষ্টায় ও সবার সহযোগিতায় মিজান এতদূর এগিয়েছে। মেডিকেলে পড়তে যে খরচাদি হবে তার যোগান দেয়া কষ্টকর হবে ওই পরিবারের। অত্র ইউনিয়নের মধ্যে মিজানই প্রথম মেডিকেল শিক্ষার্থী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, নবম শ্রেণি থেকে টিউশনি আর ধারদেনা করে পড়াশুনা চালিয়ে আসছি। এখন কোনো সংস্থা যদি আমার পড়াশুনার জন্য এগিয়ে আসে তাহলে চিকিৎসক হয়ে বন্যাপীড়িত এই ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষদের পাশে থাকতে চাই। পাশাপাশি মায়ের স্বপ্নপূরনে তিনি বিত্তবানদের সহযোগিতা চান।

– দিনাজপুর দর্পণ নিউজ ডেস্ক –